
জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়াড়া গ্রামের মহলীপাড়ার রাস্তা এখন চোখের পানি। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকা কাদা-পানি জীবনের নতুন এক কষ্টের গল্প তৈরি করেছে ১১০টি পরিবারের জন্য। উক্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছেন, কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষোভ ও চরম আকুতি মেশানো এই কথাগুলো মহলীপাড়ার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও এই ১১০টি পরিবারের জনপদের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি আজও অবহেলিত। রাস্তাটি মোট ১২০০ ফুট। এর মধ্যে মাত্র ৩০০ ফুট ইটের সলিং ছিল, বাকি ৯০০ ফুট কাঁচা। সেই ৩০০ ফুট ইটের রাস্তাও এখন ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যেন মাছ চাষের উপযোগী পুকুরে পরিণত হয়।সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের চিত্র। ৫নং ওয়ার্ডের মহলীপাড়া বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র সম্বল এই রাস্তাটির বর্তমান দশা এতটাই শোচনীয় যে, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই হাঁটু সমান কাদা আর নোংরা পানি জমে পথচারীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।রাস্তার পুরো অংশ জুড়ে শুধু কাদা আর পানির বড় বড় গর্ত। পুরো এলাকায় যাতায়াতের আর কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই মরণফাঁদ মাড়িয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও মুমূর্ষু রোগীসহ এলাকার জনসাধারণকে চলাচল করতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন চন্দ্র লস্কর বলেন, “রাস্তার এই অবস্থার জন্য আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে গেলে ভোগান্তির শেষ নেই।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একের পর এক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসে আর যায়। অনেক মেম্বার-চেয়ারম্যান ভোটের আগে রাস্তাটি পাকা করার বড় বড় আশ্বাস দিয়ে গেছেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ কথা রাখেননি। জনপ্রতিনিধিদের এই উদাসীনতার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় সচেতন অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তাটি শুধু আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।জানা গেছে, একবার উক্ত এলাকার বাসিন্দা মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তায় বালি দিয়েছিলেন। তা ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আর কোনো কাজ হয়নি। তবে এখন অবস্থা খুবই খারাপরাস্তাটি দ্রুত পাকা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
